ডায়াবেটিসে ব্যায়াম: কতক্ষণ হাঁটবেন, সতর্কতা ও জীবনযাপন — ePharma স্বাস্থ্য ব্লগ
0 Item(s)
0
0 ৳ 0 View Bag ব্যাগ দেখুন

Leading Online Pharmacy of Bangladesh

ডায়াবেটিসে ব্যায়াম: কতক্ষণ হাঁটবেন, সতর্কতা ও জীবনযাপন

সর্বশেষ আপডেট: Aug 8, 2026 লেখক: Sharaban Tohura (Pharmacist) পড়তে সময়: 9 min পাঠক: 9 Bangla
ডায়াবেটিসে ব্যায়াম: কতক্ষণ হাঁটবেন, সতর্কতা ও জীবনযাপন

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ব্যায়াম শুধু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস নয় — এটি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের অন্যতম কার্যকর উপায়। হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সাঁতার — যেকোনো মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম সপ্তাহে অন্ত

"ওষুধ খাচ্ছি, খাবার মেনে চলছি — তাহলে সুগার কমছে না কেন?" এই প্রশ্নটা অনেক ডায়াবেটিস রোগীর। প্রায়ই দেখা যায়, খাদ্যাভ্যাস ঠিক আছে, ওষুধও নিয়মিত খাচ্ছেন — কিন্তু শারীরিক কার্যক্রম একদম নেই। অথচ ব্যায়াম ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ।

নিয়মিত ব্যায়াম রক্তে গ্লুকোজ ব্যবহারে সাহায্য করে, ইনসুলিনের প্রতি শরীরের সংবেদনশীলতা উন্নত করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। নিয়মিত ব্যায়ামে অনেকের সুগার নিয়ন্ত্রণ ভালো হতে পারে, তবে ওষুধ কমানো বা পরিবর্তন শুধুমাত্র চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেবেন।

এই লেখায় আমরা জানব ডায়াবেটিস রোগীর জন্য কোন ব্যায়াম ভালো, কতক্ষণ হাঁটবেন, খাওয়ার পরে হাঁটা কতটা উপকারী, ব্যায়ামের আগে-পরে কী সতর্কতা মানবেন এবং কোন স্বাস্থ্যসামগ্রী ঘরে রাখা কাজে আসতে পারে।

ব্যায়াম কীভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে?

ব্যায়ামের সময় পেশি রক্ত থেকে গ্লুকোজ ব্যবহার করে। এতে শরীরের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা হয় এবং ইনসুলিন আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।

ব্যায়ামের উপকারিতা:

  • রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
  • ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে সহায়তা করে
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে
  • পেটের চর্বি কমাতে সাহায্য করে
  • রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে
  • হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে
  • মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা ও বিষণ্নতা কমাতে সহায়ক
  • ঘুম ভালো করতে সাহায্য করে

ডায়াবেটিসে শুধু ওষুধ নয় — খাবার, ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ঘুম এবং নিয়মিত মনিটরিং একসাথে কাজ করে।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ 💬

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (BSMMU) এন্ডোক্রাইনলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম ডায়াবেটিস রোগীদের ব্যায়াম নিয়ে পরামর্শ দিতে গিয়ে বলেন —

"নিয়মিত শরীরকে সচল রাখতে হবে। হাঁটা উত্তম উদাহরণ হতে পারে। রোজ নির্দিষ্ট সময়ে ব্যায়াম করুন — কোনো দিনই যেন বাদ না পড়ে। এক দিন হঠাৎ করে অনেক বেশি সময় ব্যায়াম করবেন না।"

তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে ডায়াবেটিসের ওষুধ বা ইনসুলিন নেওয়া রোগীদের ব্যায়ামের আগে ও পরে রক্তে শর্করা মেপে নেওয়া বিশেষভাবে জরুরি।

সূত্র: “ডায়াবেটিস রোগীদের ব্যায়াম”, Prothom Alo
https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/ডায়াবেটিস-রোগীদের-ব্যায়াম

ডায়াবেটিস রোগীর জন্য কোন ব্যায়াম ভালো?

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ব্যায়াম নির্বাচন করতে হবে বয়স, ওজন, হৃদরোগের ঝুঁকি, পায়ের অবস্থা, চোখ/কিডনির সমস্যা এবং ওষুধের ধরন বিবেচনা করে।

১. হাঁটা

হাঁটা সবচেয়ে সহজ, কম খরচের এবং বেশিরভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ ব্যায়াম। বিশেষ করে খাওয়ার পরে ১৫–২০ মিনিট হাঁটা রক্তে শর্করার আকস্মিক বৃদ্ধি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

২. সাইকেল চালানো

হাঁটু বা পায়ে ব্যথা থাকলে সাইক্লিং ভালো বিকল্প হতে পারে। বাইরে সাইকেল চালানো সম্ভব না হলে stationary cycle-ও ব্যবহার করা যায়।

৩. সাঁতার

যাদের হাঁটু, পা বা জয়েন্টে সমস্যা আছে, তাদের জন্য সাঁতার ভালো low-impact exercise। তবে নিরাপত্তা ও চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি, বিশেষ করে বয়স্ক বা হৃদরোগ ঝুঁকির রোগীদের ক্ষেত্রে।

৪. হালকা জগিং

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকলে, পায়ে সমস্যা না থাকলে এবং চিকিৎসকের অনুমতি থাকলে হালকা জগিং করা যেতে পারে। নতুনদের সরাসরি জগিং শুরু না করে হাঁটা দিয়ে শুরু করা ভালো।

৫. শক্তি বা রেজিস্ট্যান্স ব্যায়াম

স্কোয়াট, হালকা ডাম্বেল, রাবার ব্যান্ড বা body-weight exercise পেশির শক্তি বাড়ায়। পেশি যত ভালো কাজ করে, শরীর গ্লুকোজ ব্যবহারে তত বেশি সহায়তা পায়।

কতক্ষণ করবেন?

সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম ভালো লক্ষ্য — যেমন সপ্তাহে ৫ দিন ৩০ মিনিট হাঁটা। শুরুতে ১০–১৫ মিনিট থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে বাড়ান।

ব্যায়ামের একটি সহজ রুটিন হতে পারে:

  • সপ্তাহে ৫ দিন ৩০ মিনিট হাঁটা
  • সপ্তাহে ২–৩ দিন হালকা রেজিস্ট্যান্স ব্যায়াম
  • দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে প্রতি ৩০–৬০ মিনিটে ২–৫ মিনিট হাঁটা
  • খাওয়ার পরে ১৫–২০ মিনিট হালকা হাঁটা

নতুনদের জন্য একদিন হঠাৎ করে বেশি ব্যায়াম করার চেয়ে নিয়মিত অল্প অল্প করে করা বেশি নিরাপদ ও কার্যকর।

খাওয়ার পরে হাঁটা — ডায়াবেটিসের বিশেষ টিপস

খাওয়ার পরে রক্তে শর্করা সবচেয়ে বেশি বাড়ে, যাকে postprandial spike বলা হয়। ভাত, রুটি বা কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খাওয়ার ৩০–৬০ মিনিট পর ১৫–২০ মিনিট হালকা বা মাঝারি গতিতে হাঁটলে এই স্পাইক কমাতে সাহায্য করতে পারে।

দ্রুত হাঁটলে হৃৎস্পন্দন ও রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায়, যা ইনসুলিন সংবেদনশীলতা ও রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।

তবে খাওয়ার পর হাঁটা মানে খুব জোরে দৌড়ানো নয়। বিশেষ করে বয়স্ক, হৃদরোগী বা ইনসুলিন ব্যবহারকারী রোগীদের জন্য হালকা থেকে মাঝারি হাঁটাই নিরাপদ।

ব্যায়ামের আগে ও পরে যা মানবেন

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ব্যায়াম নিরাপদ রাখতে মনিটরিং খুব গুরুত্বপূর্ণ — বিশেষ করে যারা ইনসুলিন বা সুগার-কমানোর ওষুধ ব্যবহার করেন।

ব্যায়াম শুরুর আগে

  • ইনসুলিন বা সালফোনাইলইউরিয়া জাতীয় সুগার-কমানোর ওষুধ নিলে ব্যায়ামের আগে রক্তে শর্করা মাপুন।
  • রক্তে শর্করা ৭০ mg/dL-এর নিচে থাকলে এটি হাইপোগ্লাইসেমিয়া — আগে দ্রুত শর্করা/কার্বোহাইড্রেট নিয়ে সুগার স্বাভাবিক করুন, তারপর ব্যায়ামের সিদ্ধান্ত নিন।
  • ব্যায়ামের সময় সাথে গ্লুকোজ ট্যাবলেট, চিনি/মিষ্টি বা দ্রুত শর্করা জাতীয় কিছু রাখুন।
  • আরামদায়ক জুতা ও মোজা পরুন।
  • খুব গরম আবহাওয়ায় অতিরিক্ত ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

ব্যায়ামের পরে

  • আবার রক্তে শর্করা মাপুন, বিশেষত ইনসুলিন বা সুগার-কমানোর ওষুধ ব্যবহার করলে।
  • পানি পান করুন।
  • পা পরীক্ষা করুন — কোথাও ফোসকা, কাটা, লালচে ভাব বা ব্যথা হয়েছে কিনা দেখুন।
  • অস্বাভাবিক দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা কাঁপুনি থাকলে বিশ্রাম নিন এবং প্রয়োজনে সুগার মাপুন।

কখন ব্যায়াম করবেন না বা আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

  • রক্তে শর্করা খুব বেশি, বিশেষ করে ২৪০–২৫০ mg/dL-এর বেশি হলে, অসুস্থতা/কিটোন/টাইপ-১ ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যায়াম না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • তীব্র জ্বর বা অসুস্থতায়।
  • পায়ে ঘা, ফোসকা বা ইনফেকশন থাকলে।
  • চোখে ডায়াবেটিক জটিলতা থাকলে।
  • বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক বুক ধড়ফড় থাকলে।
  • সম্প্রতি হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা বড় অসুস্থতা হয়ে থাকলে।

গ্লুকোমিটার, টেস্ট স্ট্রিপ, ল্যানসেট, ডায়াবেটিক সক্স ও ডায়াবেটিক কেয়ার পণ্যের জন্য ePharma ভিজিট করুন — তবে ব্যায়াম, ওষুধ বা ইনসুলিন ডোজ পরিবর্তন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া করবেন না।

হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণ হলে কী করবেন?

ব্যায়ামের সময় বা পরে রক্তে শর্করা কমে যেতে পারে, বিশেষ করে যারা ইনসুলিন বা সুগার-কমানোর ওষুধ ব্যবহার করেন।

হাইপোগ্লাইসেমিয়ার সম্ভাব্য লক্ষণ:

  • কাঁপুনি
  • অতিরিক্ত ঘাম
  • মাথা ঘোরা
  • বুক ধড়ফড়
  • অস্বাভাবিক ক্ষুধা
  • দুর্বলতা
  • ঝিমুনি
  • মনোযোগ কমে যাওয়া

এই লক্ষণ হলে ব্যায়াম বন্ধ করুন। সম্ভব হলে রক্তে শর্করা মাপুন। সুগার কম থাকলে দ্রুত শর্করা/কার্বোহাইড্রেট নিন এবং উন্নতি না হলে চিকিৎসা নিন।

বারবার হাইপোগ্লাইসেমিয়া হলে নিজের ওষুধ বা ইনসুলিন ডোজ নিজে পরিবর্তন করবেন না — চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।

জীবনযাপনের পরিবর্তন — ছোট ছোট পদক্ষেপ

ব্যায়ামের পাশাপাশি দৈনন্দিন অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় বড় পরিবর্তনের চেয়ে ছোট নিয়মিত অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে বেশি কাজ করে।

লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন — যদি হাঁটু বা হৃদরোগের সমস্যা না থাকে।

দীর্ঘক্ষণ বসে না থেকে প্রতি ৩০–৬০ মিনিটে একবার উঠে হাঁটুন।

খাওয়ার পরে ছোট হাঁটা রাখুন — বিশেষ করে দুপুর ও রাতের খাবারের পর।

পর্যাপ্ত ঘুমান — প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

মানসিক চাপ কমান — দীর্ঘমেয়াদি স্ট্রেস সুগার বাড়াতে পারে।

ধূমপান বর্জন করুন — ধূমপান ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন — বিশেষ করে পেটের চর্বি কমানো ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে সহায়ক।

ডায়াবেটিক ফুটওয়্যার/সঠিক জুতা ব্যবহার করুন — হাঁটার সময় পায়ে ফোসকা বা ঘা হলে ডায়াবেটিস রোগীদের সারতে দেরি হতে পারে।

পায়ের যত্ন — ডায়াবেটিস রোগীর বিশেষ দায়িত্ব

ডায়াবেটিসে স্নায়ু ও রক্তনালির ক্ষতির কারণে পায়ে সংবেদনশীলতা কমে যেতে পারে। ফলে ছোট কাটা, ফোসকা বা ঘা অনেক সময় রোগী বুঝতেই পারেন না। তাই ব্যায়াম করলে পায়ের যত্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ।

যা করবেন:

  • প্রতিদিন পা পরীক্ষা করুন।
  • হাঁটার আগে ও পরে পায়ের তলা দেখুন।
  • আঁটসাঁট জুতা পরবেন না।
  • খালি পায়ে হাঁটবেন না।
  • মোজা শুকনো ও পরিষ্কার রাখুন।
  • পায়ে কোথাও কাটা, ফোসকা, লালচে ভাব বা ঘা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

যাদের পায়ে আগেই ঘা, অসাড়তা, জ্বালাপোড়া বা neuropathy আছে, তাদের ব্যায়ামের ধরন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা উচিত।

ঘরে কী কী মনিটরিং পণ্য কাজে আসতে পারে?

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ঘরে কিছু মনিটরিং পণ্য থাকলে নিয়মিত self-care সহজ হয়।

  • গ্লুকোমিটার — ব্যায়ামের আগে ও পরে সুগার বুঝতে সাহায্য করে।
  • ব্লাড গ্লুকোজ টেস্ট স্ট্রিপ — নিয়মিত সুগার মাপার জন্য।
  • ল্যানসেট — সুগার টেস্টের সহায়ক পণ্য।
  • ডায়াবেটিক সক্স — পায়ের ঘর্ষণ ও অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
  • ডায়াবেটিক ফুটওয়্যার — হাঁটার সময় পায়ে চাপ কমাতে সহায়ক।
  • ডিজিটাল ওজন মাপার মেশিন — ওজন নিয়ন্ত্রণ পর্যবেক্ষণে।
  • ডিজিটাল ব্লাড প্রেশার মনিটর — ডায়াবেটিস রোগীদের হৃদরোগ ঝুঁকি বেশি হওয়ায় BP মনিটরিং গুরুত্বপূর্ণ।

মনে রাখবেন, এগুলো self-monitoring ও support-এর জন্য। ওষুধ, ইনসুলিন ডোজ বা ব্যায়ামের মাত্রা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিতে হবে।

উপসংহার

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ওষুধ, খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম ও নিয়মিত মনিটরিং — এই চারটি একসাথে কাজ করে। শুধু হাঁটার অভ্যাস করলেও অনেকের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়।

তবে ব্যায়ামের ধরন ও মাত্রা আপনার ডায়াবেটিসের অবস্থা, ওষুধ, ইনসুলিন ব্যবহার, হৃদরোগের ঝুঁকি, পায়ের অবস্থা ও অন্যান্য জটিলতার ওপর নির্ভর করে। তাই বিশেষ করে ইনসুলিন/সুগার-কমানোর ওষুধ ব্যবহার করলে, হৃদরোগ/কিডনি/চোখ/পায়ের সমস্যা থাকলে বা নতুন করে তীব্র ব্যায়াম শুরু করতে চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ডায়াবেটিস সম্পর্কিত আরও পড়ুন:
ডায়াবেটিস রোগীর খাবার তালিকা →
ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ গাইড →

গ্লুকোমিটার, টেস্ট স্ট্রিপ, ল্যানসেট ও ডায়াবেটিক কেয়ার পণ্যের জন্য epharma.com.bd ভিজিট করুন।

সম্পর্কিত স্বাস্থ্যসামগ্রী

  • গ্লুকোমিটার ও ব্লাড সুগার টেস্ট স্ট্রিপ
  • ল্যানসেট
  • ডায়াবেটিক সক্স ও ফুটওয়্যার
  • ডিজিটাল ওজন মাপার মেশিন
  • ডিজিটাল ব্লাড প্রেশার মনিটর

সতর্কতা: ব্যায়ামের মাত্রা, ডায়াবেটিসের ওষুধ বা ইনসুলিন ডোজ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পরিবর্তন করবেন না।

📚 তথ্যসূত্র

১. "ডায়াবেটিস রোগীদের ব্যায়াম" — Prothom Alo, এপ্রিল ২০২০। ডা. শাহজাদা সেলিম, সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনলজি বিভাগ, BSMMU।
https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/ডায়াবেটিস-রোগীদের-ব্যায়াম

২. "ডায়াবেটিস রোগী দ্রুত হাঁটলে যে উপকার পাবেন" — The Daily Star Bangla, ডিসেম্বর ২০২৩। দ্রুত হাঁটা ইনসুলিন সংবেদনশীলতা ও রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে।
https://bangla.thedailystar.net/health/news-449141

৩. American Diabetes Association — Standards of Care in Diabetes—2026. Physical activity recommendation: সপ্তাহে ১৫০ মিনিট বা তার বেশি মাঝারি থেকে vigorous aerobic activity এবং সপ্তাহে ২–৩ দিন resistance exercise.
https://diabetesjournals.org/care/article/49/Supplement_1/S89/163932/5-Facilitating-Positive-Health-Behaviors-and-Well

৪. CDC — Diabetes Management: insulin ব্যবহারকারী বা low blood sugar risk থাকলে physical activity-এর আগে/পরে blood sugar বেশি মনিটর করার কথা বলা হয়েছে; অসুস্থ অবস্থায় blood sugar 240 mg/dL বা বেশি হলে ketone check-এর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
https://www.cdc.gov/diabetes/treatment/index.html

৫. CDC — Low Blood Sugar: 70 mg/dL-এর নিচে blood sugar low হিসেবে ধরা হয়, এবং physical activity low blood sugar-এর একটি কারণ হতে পারে।
https://www.cdc.gov/diabetes/about/low-blood-sugar-hypoglycemia.html

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: ডায়াবেটিস রোগী কতক্ষণ হাঁটবেন?
উত্তর: সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম ভালো লক্ষ্য — যেমন সপ্তাহে ৫ দিন ৩০ মিনিট হাঁটা। শুরুতে ১০–১৫ মিনিট থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে বাড়ান।

প্রশ্ন ২: ব্যায়াম করলে কি সুগার কমবে?
উত্তর: হ্যাঁ। ব্যায়ামের সময় পেশি রক্ত থেকে গ্লুকোজ ব্যবহার করে এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ে। নিয়মিত ব্যায়াম রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।

প্রশ্ন ৩: ব্যায়ামের আগে রক্তে সুগার কত থাকলে করা যাবে?
উত্তর: সবার জন্য এক সংখ্যা নিরাপদ বলা যায় না। তবে ৭০ mg/dL-এর নিচে থাকলে আগে হাইপোগ্লাইসেমিয়া ঠিক করতে হবে। খুব বেশি, বিশেষ করে ২৪০–২৫০ mg/dL-এর বেশি হলে, অসুস্থতা/কিটোন বা ইনসুলিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যায়াম করুন।

প্রশ্ন ৪: ইনসুলিন নিলে কি ব্যায়াম করা যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ, তবে সতর্কতা লাগে। ব্যায়ামের আগে ও পরে সুগার মাপুন এবং সাথে দ্রুত শর্করা/কার্বোহাইড্রেট রাখুন। হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণ হলে ব্যায়াম বন্ধ করে দ্রুত শর্করা নিন। ইনসুলিনের ডোজ পরিবর্তন শুধুমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শে করবেন।

প্রশ্ন ৫: পায়ে সমস্যা থাকলে কোন ব্যায়াম করব?
উত্তর: পায়ে সমস্যা থাকলে সাঁতার বা সাইকেল চালানো পায়ে কম চাপ দেয় এবং ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে পায়ে ঘা, অসাড়তা, জ্বালাপোড়া বা neuropathy থাকলে ব্যায়াম শুরুর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

প্রশ্ন ৬: খাওয়ার পরে হাঁটা কি ডায়াবেটিসে উপকারী?
উত্তর: হ্যাঁ। ভাত বা রুটি খাওয়ার ৩০–৬০ মিনিট পর ১৫–২০ মিনিট হালকা বা মাঝারি হাঁটা রক্তে শর্করার আকস্মিক বৃদ্ধি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

প্রশ্ন ৭: ডায়াবেটিস রোগী কি জিম করতে পারবেন?
উত্তর: অনেক ডায়াবেটিস রোগী জিম বা রেজিস্ট্যান্স ব্যায়াম করতে পারেন, তবে ধীরে ধীরে শুরু করা উচিত। হৃদরোগ, চোখ/কিডনি/পায়ের জটিলতা বা দীর্ঘদিন ব্যায়াম না করার ইতিহাস থাকলে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

প্রশ্ন ৮: ব্যায়ামের সময় হঠাৎ দুর্বল লাগলে কী করব?
উত্তর: ব্যায়াম বন্ধ করুন, বসে বিশ্রাম নিন এবং সম্ভব হলে রক্তে শর্করা মাপুন। সুগার কম থাকলে দ্রুত শর্করা/কার্বোহাইড্রেট নিন। উন্নতি না হলে চিকিৎসা নিন।

এই লেখা শুধুমাত্র সাধারণ স্বাস্থ্য তথ্যের জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসা, ডোজ বা জরুরি সিদ্ধান্তের জন্য নিবন্ধিত ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নিন।
ePharma অ্যাপে আরও সহজে স্বাস্থ্যসেবা নিন মেডিসিন অর্ডার, প্রেসক্রিপশন আপলোড ও স্বাস্থ্য পণ্য এক জায়গায়।
অ্যাপ ডাউনলোড
Related Products
Pentasure DM Diabetes Care - Creamy Vanilla & Cinnamon Flavor 400gm - Buy Online in Bangladesh | ePharma
Sold Out
Pentasure DM Diabetes Care - Creamy Vanilla & Cinnamon Flavor 400gm
MRP 1890 1% off
1871
Accu-Check Active Blood Glucose Monitor | Imported
MRP 3200 10% off
2880
VivaChek Ino Glucose Test Meter
MRP 2250 25% off
1688
Abasaglar Kwikpen SC Injection 100IU/ml
MRP 1350 3% off
1310
Trulicity 0.75mg Prefilled Insulin Pen
MRP 4000 1% off
3960
Ansupen Reusable Insulin Pen
MRP 700 3% off
679
Insulatard Flexpen
MRP 425 2% off
417
Diabeat Capsule
MRP 210 5% off
200
Diabetasol Diabetic Powdered Milk, Vanilla, 180gm - Buy Online in Bangladesh | ePharma
Sold Out
Diabetasol Diabetic Powdered Milk, Vanilla, 180gm
MRP 480 2% off
470
Quick Check Self Monitoring Blood Glucose Meter
MRP 1550 2% off
1519
Hi, there!



Get more features!
Download the app now
✓ Pill reminder   ✓ Prescription & Report  
✓ Doctor consultation   ✓ 24/7 helpline
Get it on Google Play Download on the App Store