পালস অক্সিমিটার ব্যবহারের নিয়ম: SpO₂ কত হলে চিন্তার? — ePharma স্বাস্থ্য ব্লগ
🩺 ডাক্তার খুঁজুন
0 Item(s)
৳ 0
0 ৳ 0 ব্যাগ দেখুন

Leading Online Pharmacy of Bangladesh

পালস অক্সিমিটার ব্যবহারের নিয়ম: SpO₂ কত হলে চিন্তার?

সর্বশেষ আপডেট: Oct 10, 2026 লেখক: Sharaban Tohura (Pharmacist) পড়তে সময়: 9 min পাঠক: 7 Bangla
পালস অক্সিমিটার ব্যবহারের নিয়ম: SpO₂ কত হলে চিন্তার?

হাত গরম রাখা, নেইলপলিশ সরানো, স্থির রিডিং দেখা, অক্সিজেনের মাত্রা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া—বাসায় পালস অক্সিমিটার ব্যবহারের সহজ গাইড।

পালস অক্সিমিটার ব্যবহারের নিয়ম: ঠিকভাবে অক্সিজেন মাপবেন যেভাবে, কত হলে চিন্তার

দ্রুত উত্তর

পালস অক্সিমিটার আঙুলে লাগিয়ে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা (SpO2) আর পালস রেট মাপা যায়। ঠিক রিডিং পেতে হাত গরম করে নিন, কয়েক মিনিট বিশ্রাম নিয়ে বসুন, তর্জনী বা মধ্যমা আঙুল ব্যবহার করুন, নেইলপলিশ মুছে ফেলুন, হাত স্থির রাখুন, আর প্রথম সংখ্যা নয়, ৩০–৬০ সেকেন্ড পরের স্থির সংখ্যাটি নিন। বেশির ভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের SpO₂ সাধারণত ৯৫–১০০%। বিশ্রামের পরও বারবার ৯৩–৯৪% এলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন; ৯২% বা কম হলে জরুরি মূল্যায়ন প্রয়োজন। শ্বাসকষ্ট, ঠোঁট নীলচে বা বুকে ব্যথা থাকলে সংখ্যা যা-ই দেখাক, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।

ছোট যন্ত্র, বড় কাজ

করোনার সময় থেকে অনেক বাসায় একটা ছোট ক্লিপের মতো যন্ত্র দেখা যায়, পালস অক্সিমিটার। কেউ ড্রয়ারে রেখে দিয়েছেন, কেউ আবার মাঝে মাঝে মাপেন, কিন্তু সংখ্যাটা দেখে ঠিক বুঝতে পারেন না, "৯৫ কি ভালো? ৯৩ হলে কি হাসপাতালে যাব?"

আরেকটা সমস্যা হলো, ভুল নিয়মে মাপলে রিডিংও ভুল আসে। ঠান্ডা হাত, নেইলপলিশ বা নড়াচড়ার কারণে অনেকে অযথা আতঙ্কিত হন, আবার কেউ ভুল "ভালো" সংখ্যা দেখে নিশ্চিন্ত থাকেন। এই লেখায় দুটো বিষয়ই সহজ করে বলছি: কীভাবে ঠিকভাবে মাপবেন, আর সংখ্যাটার মানে কী।

পালস অক্সিমিটার কী মাপে

বারডেম জেনারেল হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের রেজিস্ট্রার ডা. মধুরিমা সাহা প্রথম আলোতে এটিকে এমন যন্ত্র বলেছেন —

"যা আঙুলের মধ্যে লাগিয়ে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ও পালস রেট মাপা যায়।"

পর্দায় সাধারণত দুটি সংখ্যা দেখায়:

  • SpO2 (%): রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা
  • PR বা PRbpm: পালস রেট, মানে প্রতি মিনিটে হৃৎস্পন্দন

মনে রাখবেন, এটি রোগ নির্ণয়ের যন্ত্র নয়। এটি শুধু একটা মাপ দেয়, আর সেই মাপ আপনার উপসর্গের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হয়।

কাদের জন্য বাসায় রাখা কাজের

ডা. মধুরিমা সাহা একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। কিছু মানুষের অক্সিজেন কমে গেলেও শ্বাসকষ্ট হয় না —

"অর্থাৎ, অক্সিজেনের মাত্রা কম, কিন্তু শ্বাসকষ্ট না হওয়ায় তিনি তা উপলব্ধি করতে পারেন না।"

তাই এই যন্ত্র বিশেষভাবে কাজে আসতে পারে:

  • হাঁপানি, সিওপিডি বা দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগী, যাঁদের চিকিৎসক বাসায় মাপতে বলেছেন
  • নিউমোনিয়া বা শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ থেকে সেরে উঠছেন এমন কেউ, চিকিৎসকের পরামর্শে
  • বয়স্ক সদস্য আছেন এমন পরিবার। ডা. মধুরিমা সাহার মতে, বয়স্কদের ক্ষেত্রে "কথাবার্তা অসংলগ্ন হতে শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।"

সুস্থ মানুষের প্রতিদিন মাপার দরকার নেই। অযথা বারবার মেপে দুশ্চিন্তা বাড়ানোর চেয়ে, প্রয়োজনের সময় ঠিকভাবে মাপা বেশি কাজের।

ঠিকভাবে মাপার ৭টি ধাপ

জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (মহাখালী) পালমোনোলজি রেসিডেন্ট ডা. মুশফিক নেওয়াজ আহমেদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (FDA) নির্দেশনা মিলিয়ে ধাপগুলো:

১. কয়েক মিনিট বিশ্রাম নিন। হাঁটাহাঁটি বা সিঁড়ি বেয়ে আসার পরপরই মাপবেন না। আরাম করে বসুন।

২. হাত গরম করে নিন। ডা. মুশফিক নেওয়াজ আহমেদ বলেন, "ব্যবহারের আগে হাত একটু ঘষে উষ্ণ করে নিতে হবে।" শীতে ঠান্ডা আঙুলে রিডিং প্রায়ই ভুল আসে।

৩. নেইলপলিশ বা কৃত্রিম নখ সরান। FDA বলছে, যে আঙুলে মাপবেন সেখানকার নেইলপলিশ মুছে ফেলুন। নেইলপলিশ বা কৃত্রিম নখ থাকলে অন্য উপযুক্ত আঙুল ব্যবহার করতে পারেন।

৪. ঠিক আঙুল বেছে নিন। যেকোনো হাতের তর্জনী বা মধ্যমা আঙুল সবচেয়ে ভালো। আঙুল এমনভাবে ঢোকান যেন আঙুলের ডগা যন্ত্রের শেষ প্রান্ত ছোঁয় (ডা. মুশফিক নেওয়াজ আহমেদ)।

৫. হাত স্থির ও হৃৎপিণ্ডের নিচে রাখুন। হাত টেবিল বা উরুর ওপর রেখে দিন। FDA বলছে, হাত উষ্ণ, শিথিল ও হৃৎপিণ্ডের স্তরের নিচে রাখুন এবং নড়াচড়া করবেন না।

৬. প্রথম সংখ্যা দেখেই সিদ্ধান্ত নয়। ডা. মুশফিক নেওয়াজ আহমেদের পরামর্শ, "প্রথম রিডিং দেখেই সিদ্ধান্তে না পৌছে অন্তত ৩০-৬০ সেকেন্ড পর যে রিডিং পাওয়া যাবে" সেটিই নিন। সংখ্যা স্থির না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

৭. লিখে রাখুন। তারিখ, সময়, রিডিং আর তখন কেমন লাগছিল, তা একটা খাতায় বা ফোনে লিখে রাখুন। FDA-ও এটা করতে বলে, যাতে চিকিৎসককে পরিবর্তনের ধারা দেখাতে পারেন।

ছোট টিপ: খুব উজ্জ্বল আলো বা সরাসরি রোদে মাপলে রিডিংয়ে প্রভাব পড়তে পারে। ডা. মুশফিক নেওয়াজ আহমেদ ঘরের আলো যথাসম্ভব কমিয়ে নিতে বলেছেন।

কেন রিডিং ভুল আসে

একই মানুষ, পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুই রকম সংখ্যা? প্রায়ই কারণটা যন্ত্র নয়, মাপার পরিস্থিতি।

| কারণ | কী হয় | সমাধান | |---|---|---| | ঠান্ডা হাত বা দুর্বল রক্ত চলাচল | আঙুলে সংকেত দুর্বল, রিডিং কম বা অস্থির | হাত ঘষে গরম করুন, একটু অপেক্ষা করুন | | নেইলপলিশ, কৃত্রিম নখ | আলো আটকে যায় | পলিশ মুছুন বা অন্য আঙুল | | হাত নাড়ানো, কাঁপুনি | সংখ্যা লাফায় | হাত টেবিলে রেখে স্থির থাকুন | | হাঁটার পরপর মাপা | আসল বিশ্রামের মাপ পাওয়া যায় না | কয়েক মিনিট বসে তারপর মাপুন | | খুব উজ্জ্বল আলো | রিডিংয়ে প্রভাব পড়তে পারে | ঘরের আলো কমান | | ধূমপান | রিডিংয়ের নির্ভুলতায় প্রভাব পড়তে পারে (FDA) | ধূমপায়ী হলে চিকিৎসককে জানান | | দুর্বল ব্যাটারি বা নিম্নমানের যন্ত্র | ভুল বা অস্থির রিডিং | ভালো মানের যন্ত্র, ব্যাটারি বদলান |

গাঢ় রঙের ত্বকে সতর্কতা

FDA জানিয়েছে, ত্বকের রং (skin pigmentation) পালস অক্সিমিটারের নির্ভুলতায় প্রভাব ফেলতে পারে, আর হালকা ও গাঢ় ত্বকের মানুষের মধ্যে রিডিংয়ের নির্ভুলতায় পার্থক্য দেখা গেছে। আমাদের দেশের অনেকের ত্বকের রং গাঢ় বা বাদামি, তাই একটা সংখ্যার ওপর পুরোপুরি ভরসা না করে উপসর্গও খেয়াল রাখুন।

সংখ্যাটার মানে কী: অক্সিজেন কত থাকা উচিত

বেশির ভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের বিশ্রামের SpO₂ সাধারণত ৯৫–১০০%। উচ্চতা, হৃদ্‌রোগ ও দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগে ব্যক্তিগত baseline আলাদা হতে পারে। তাই একটি সংখ্যা দিয়ে রোগ নির্ণয় বা অক্সিজেন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।

| রিডিং বা পরিস্থিতি | কী করবেন | |---|---| | ৯৫–১০০%, সুস্থ বোধ করছেন | সাধারণত স্বাভাবিক; বিপদের উপসর্গ তবুও উপেক্ষা করবেন না। | | ৯৩–৯৪%, বিশ্রামের পরও বারবার | ব্যক্তিগতভাবে কম baseline নির্ধারিত না থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ ও মূল্যায়ন নিন। | | ৯২% বা কম, ঠিকভাবে মাপার পরও | ব্যক্তিগতভাবে আলাদা পরিকল্পনা না থাকলে জরুরি চিকিৎসা মূল্যায়ন নিন। | | তীব্র শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, ঠোঁট নীল/ধূসর, অজ্ঞান বা বিভ্রান্তি | রিডিং যা-ই হোক অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা নিন। |

এই সংখ্যাগুলো সাধারণ নিরাপত্তা নির্দেশনা; COPD, শিশু, গর্ভাবস্থা বা আগে থেকে অক্সিজেন নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে নিজস্ব clinical plan-ই অগ্রাধিকার পাবে।

একটা রিডিং দিয়ে সিদ্ধান্ত নয়। কম সংখ্যা এলে আগে দেখুন হাত ঠান্ডা কি না, নেইলপলিশ আছে কি না, হাত নড়ছে কি না। ঠিক করে আবার মাপুন। তবে সঙ্গে উপসর্গ থাকলে আবার মাপার জন্য বসে থাকবেন না।

সংখ্যার চেয়েও জরুরি: এই উপসর্গগুলো

FDA পরিষ্কার বলেছে: "Do not rely only on a pulse oximeter." মানে, শুধু অক্সিমিটারের ওপর ভরসা করবেন না। রিডিং ভালো দেখালেও নিচের যেকোনো লক্ষণ থাকলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান:

  • 🚨 মুখ, ঠোঁট বা নখ নীলচে হয়ে যাওয়া
  • 🚨 শ্বাসকষ্ট বা কাশি বেড়ে যাওয়া
  • 🚨 বুকে ব্যথা বা চাপ লাগা
  • 🚨 বুক ধড়ফড় বা খুব দ্রুত পালস
  • 🚨 মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা ঝিমুনি (ডা. মধুরিমা সাহা)
  • 🚨 বয়স্ক কারও হঠাৎ অসংলগ্ন কথা বা বিভ্রান্তি

(প্রথম চারটি FDA-র তালিকা থেকে।) FDA এটাও মনে করিয়ে দিয়েছে, কারও কারও অক্সিজেন কমলেও এসব উপসর্গ কম থাকে বা থাকেই না। তাই ঝুঁকিতে থাকা মানুষের ক্ষেত্রে মাপ আর উপসর্গ দুটোই দেখতে হয়।

বাসায় নিজে অক্সিজেন দেবেন না

রিডিং কম দেখে অনেকে বাসায় অক্সিজেন সিলিন্ডার এনে নিজেরাই চালু করেন। এটা ঝুঁকিপূর্ণ। অক্সিজেন একটা চিকিৎসা, এর প্রয়োজন ও মাত্রা চিকিৎসক ঠিক করবেন। রাইজিংবিডিতে চিকিৎসক ডা. শাহনেওয়াজ চৌধুরীও বাসায় অক্সিজেনের মাত্রা অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে ঠিক করার কথা বলেছেন। রিডিং কম থাকলে সময় নষ্ট না করে হাসপাতালে যান।

শিশুদের ক্ষেত্রে আলাদা কথা

বড়দের আঙুলের মাপে তৈরি সাধারণ অক্সিমিটার ছোট শিশুর আঙুলে ঠিকমতো বসে না, ফলে রিডিং ভুল আসতে পারে। শিশুর সীমাও বড়দের মতো নয়: শিশুর নিউমোনিয়া নিয়ে একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ৯২% আর আরেকজন ৯৩%-এর নিচে হাসপাতালে ভর্তির কথা বলেছেন।

শিশুর ক্ষেত্রে যন্ত্রের চেয়ে বেশি ভরসা রাখুন চোখের ওপর: দ্রুত শ্বাস, শ্বাস নেওয়ার সময় বুকের নিচের অংশ ভেতরে ঢুকে যাওয়া, খেতে না পারা বা নেতিয়ে পড়া। বিস্তারিত পড়ুন: শীতে শিশুর কাশি: সাধারণ ঠান্ডা নাকি নিউমোনিয়া?

ভালো অক্সিমিটার কেনার আগে

ডা. মুশফিক নেওয়াজ আহমেদ ভালো মানের অক্সিমিটার ব্যবহার আর ব্যাটারির অবস্থা খেয়াল রাখার কথা বলেছেন। কেনার সময় দেখে নিন:

  • পরিষ্কার ডিসপ্লে, যেখানে SpO2 আর পালস আলাদা করে পড়া যায়, সম্ভব হলে সংকেতের শক্তি (বার বা তরঙ্গ) দেখায়
  • নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড ও বৈধ বিক্রেতা, ওয়ারেন্টিসহ
  • আঙুলের মাপ: বয়স্ক বা খুব সরু আঙুলে ঠিকমতো বসে কি না
  • ব্যাটারি: অতিরিক্ত ব্যাটারি হাতে রাখুন, দুর্বল ব্যাটারিতে রিডিং অস্থির হতে পারে
  • ব্যবহারের পর নরম কাপড়ে মুছে কেসে রাখুন, প্রস্তুতকারকের পরিষ্কারের নির্দেশনা মানুন

উপযুক্ত মডেল ও স্টক যাচাই করে ePharma-র Health Devices বিভাগ থেকে পালস অক্সিমিটার বেছে নিতে পারেন। সঙ্গে বাসার স্বাস্থ্য-কিট পূর্ণ করতে ডিজিটাল থার্মোমিটার ও ব্লাড প্রেশার মনিটরের সঠিক ব্যবহারও জেনে নিন।

আরও পড়ুন

উপসংহার

পালস অক্সিমিটার তখনই কাজের, যখন এটা ঠিকভাবে ব্যবহার করা হয় আর এর সীমাবদ্ধতা মাথায় থাকে। গরম হাত, স্থির আঙুল, নেইলপলিশ ছাড়া, আর স্থির হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা: এই চারটি অভ্যাসেই বেশিরভাগ ভুল রিডিং এড়ানো যায়। কিন্তু সংখ্যাটাই শেষ কথা নয়। শরীর যদি বিপদের সংকেত দেয়, যন্ত্রের দিকে না তাকিয়ে হাসপাতালে যান।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: শরীরে অক্সিজেনের স্বাভাবিক মাত্রা কত? উত্তর: বেশির ভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের SpO₂ সাধারণত ৯৫–১০০%। হাঁপানি বা সিওপিডির রোগীদের স্বাভাবিক মাত্রা কিছুটা কম থাকতে পারে, তাঁদের লক্ষ্যমাত্রা চিকিৎসক ঠিক করে দেবেন।

প্রশ্ন ২: অক্সিজেন কত হলে হাসপাতালে যাওয়া উচিত? উত্তর: ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগ না থাকলে বারবার ৯৩–৯৪% এলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন; ৯২% বা কম হলে জরুরি মূল্যায়ন প্রয়োজন। শ্বাসকষ্ট, ঠোঁট নীলচে বা বুকে ব্যথা থাকলে সংখ্যা যা-ই হোক অপেক্ষা করবেন না।

প্রশ্ন ৩: পালস অক্সিমিটার কোন আঙুলে লাগাব? উত্তর: যেকোনো হাতের তর্জনী বা মধ্যমা আঙুল। আঙুলের ডগা যেন যন্ত্রের শেষ প্রান্ত ছোঁয়।

প্রশ্ন ৪: নেইলপলিশ থাকলে কি রিডিং ভুল আসে? উত্তর: আসতে পারে। FDA যে আঙুলে মাপবেন সেখানকার নেইলপলিশ মুছে ফেলতে বলে। কৃত্রিম নখ বা মেহেদিও এড়িয়ে চলুন।

প্রশ্ন ৫: একেকবার একেক রকম রিডিং আসছে কেন? উত্তর: সাধারণত ঠান্ডা হাত, নড়াচড়া, হাঁটার পরপর মাপা বা দুর্বল ব্যাটারির কারণে। হাত গরম করে, বসে বিশ্রাম নিয়ে, হাত স্থির রেখে ৩০–৬০ সেকেন্ড পরের স্থির সংখ্যাটি নিন।

প্রশ্ন ৬: অক্সিমিটারে দুটি সংখ্যা কেন দেখায়? উত্তর: একটি SpO2, মানে রক্তে অক্সিজেনের শতাংশ। অন্যটি PR, মানে প্রতি মিনিটে পালস বা হৃৎস্পন্দন।

প্রশ্ন ৭: রিডিং ভালো, কিন্তু শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। কী করব? উত্তর: সংখ্যার ওপর ভরসা না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে বা হাসপাতালে যান। FDA বলছে, শুধু পালস অক্সিমিটারের ওপর নির্ভর করবেন না।

প্রশ্ন ৮: শিশুর অক্সিজেন কি বড়দের অক্সিমিটারে মাপা যায়? উত্তর: বড়দের যন্ত্র ছোট আঙুলে ঠিকমতো বসে না, তাই রিডিং ভুল আসতে পারে। শিশুর ক্ষেত্রে দ্রুত শ্বাস, বুক দেবে যাওয়া, খেতে না পারা দেখলে সরাসরি চিকিৎসকের কাছে যান।

প্রশ্ন ৯: গাঢ় রঙের ত্বকে কি রিডিং কম-বেশি হয়? উত্তর: FDA জানিয়েছে, ত্বকের রং অক্সিমিটারের নির্ভুলতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই রিডিংয়ের পাশাপাশি উপসর্গ খেয়াল রাখুন।

প্রশ্ন ১০: অক্সিজেন কম দেখলে কি বাসায় সিলিন্ডার দিয়ে অক্সিজেন দেব? উত্তর: না। অক্সিজেনের প্রয়োজন ও মাত্রা চিকিৎসক ঠিক করবেন। রিডিং কম হলে দ্রুত হাসপাতালে যান।

তথ্যসূত্র

১. "শরীরে অক্সিজেন কমতে থাকলে" — প্রথম আলো, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ডা. মধুরিমা সাহা, রেজিস্ট্রার, ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা। prothomalo.com

২. "জেনে নিন পালস অক্সিমিটার কিভাবে ব্যবহার করতে হয়" — মেডিভয়েস, ১ এপ্রিল ২০২১। ডা. মুশফিক নেওয়াজ আহমেদ, এমডি রেসিডেন্ট, পালমোনোলজি, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী। medivoicebd.com

৩. "ঘরে অক্সিমিটার নেই, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট- কী করবেন?" — রাইজিংবিডি, ১ জুন ২০২১। ডা. শাহনেওয়াজ চৌধুরী, সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার। risingbd.com

৪. U.S. FDA — "Pulse Oximeter Basics" — ঠিকভাবে মাপার নিয়ম, নেইলপলিশ, ত্বকের রং, রিডিং লিখে রাখা, উপসর্গ। fda.gov

৫. U.S. FDA — "Pulse Oximeters" — নির্ভুলতায় প্রভাব ফেলার কারণ; "Do not rely only on a pulse oximeter." fda.gov

৬. শিশুর অক্সিজেনের সীমা: অধ্যাপক ডা. এ আর এম লুৎফুল কবীর (প্রথম আলো, ৩১ মার্চ ২০২৪) ও অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা (প্রথম আলো, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩) — বিস্তারিত আমাদের শিশুর নিউমোনিয়া গাইডে।

অতিরিক্ত তথ্যসূত্র

এই লেখা শুধুমাত্র সাধারণ স্বাস্থ্য তথ্যের জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসা, ডোজ বা জরুরি সিদ্ধান্তের জন্য নিবন্ধিত ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নিন।
ePharma অ্যাপে আরও সহজে স্বাস্থ্যসেবা নিন মেডিসিন অর্ডার, প্রেসক্রিপশন আপলোড ও স্বাস্থ্য পণ্য এক জায়গায়।
অ্যাপ ডাউনলোড
স্বাগতম!



Get more features!
Download the app now
✓ Pill reminder   ✓ Prescription & Report  
✓ Doctor consultation   ✓ 24/7 helpline
Get it on Google Play Download on the App Store