শীতে হাঁপানি ও অ্যালার্জি: শ্বাসকষ্ট কেন বাড়ে, কী করবেন
ঠান্ডা বাতাস, ধুলা, ডাস্ট মাইট ও ভাইরাসে শীতে হাঁপানি-অ্যালার্জি কেন বাড়ে, প্রস্তুতি, ইনহেলার কৌশল ও জরুরি লক্ষণ জানুন।
দ্রুত উত্তর
শীতে হাঁপানি ও অ্যালার্জি বাড়ে মূলত ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস, বাড়তি ধুলাবালু ও বায়ুদূষণ, সর্দি-কাশি বা ফ্লুর মতো ভাইরাস সংক্রমণ, আর লেপ-কম্বলে জমে থাকা ডাস্ট মাইটের কারণে। শীত শুরুর আগেই ইনহেলার ও ওষুধের মজুত আর মেয়াদ দেখে নিন, চিকিৎসকের সঙ্গে একবার পরামর্শ করুন, বাইরে মাস্ক পরুন, নাক-মুখ ঢেকে রাখুন, ভোর ও সন্ধ্যার ঠান্ডায় হাঁটা এড়ান, আর লেপ-কম্বল ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিন। রিলিভার ইনহেলারেও আরাম না পেলে, কথা বলতে বা হাঁটতে কষ্ট হলে দেরি না করে হাসপাতালে যান।
শীত এলেই কেন বুকটা ভারী লাগে
কার্তিকের শেষে প্রথম যে সকালে কুয়াশা পড়ে, অনেক বাসায় সেদিন থেকেই রাতের কাশিটা শুরু হয়। বুকে সাঁই সাঁই শব্দ, ভোরে ঘুম ভেঙে যাওয়া, সারাদিন হাঁচি আর নাক বন্ধ। যাঁদের হাঁপানি বা অ্যালার্জি আছে, তাঁদের কাছে শীত মানে প্রায়ই বাড়তি সতর্কতার মৌসুম।
ভালো খবর হলো, কেন বাড়ে সেটা জানা থাকলে আগে থেকেই অনেকটা সামলানো যায়।
ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস
যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (NHS) ঠান্ডা বাতাসকে হাঁপানির ট্রিগারের তালিকায় রেখেছে। তাপমাত্রা কমার সঙ্গে বাতাসের আর্দ্রতাও কমে যায়, আর ঠান্ডা-শুষ্ক বাতাস সংবেদনশীল শ্বাসনালিকে উত্তেজিত করে।
ধুলা আর বায়ুদূষণ
মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান প্রথম আলোতে লিখেছেন —
"শীতের শুরুতে বায়ুদূষণ অনেক বেড়ে যায়, যা শ্বাসকষ্ট বাড়ার অন্যতম কারণ।"
তাঁর মতে ঠান্ডা হাওয়া, ধুলাবালু, ফুলের রেণু, ভাইরাস সংক্রমণ, সর্দি-কাশি আর ধূমপান মিলে শীতে উপসর্গ বাড়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (WHO) সর্দি, আবহাওয়ার পরিবর্তন, ধুলা, ধোঁয়া ও বায়ুদূষণকে হাঁপানির ট্রিগার হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সর্দি-কাশি আর ফ্লু
শীতে ভাইরাসজনিত সর্দি-কাশি বেশি হয়। NHS বলছে, ফ্লুর মতো ভাইরাস হাঁপানির উপসর্গ আরও খারাপ করতে পারে।
ঘরের ভেতরের অ্যালার্জেন
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ধানমন্ডির সহকারী অধ্যাপক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সাইফ হোসেন খান প্রথম আলোতে মনে করিয়ে দিয়েছেন, শীতে আমরা বেশি সময় ঘরে থাকি, আর ঘরের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে অনেক ট্রিগার —
"বিশেষ করে বিছানা, বালিশ, কম্বল, কার্পেট ও পর্দা ডাস্ট মাইটের জন্য আদর্শ স্থান।"
সারা বছর বাক্সে তুলে রাখা লেপ-কম্বল প্রথম দিন সরাসরি গায়ে দিলে অনেকেরই হাঁচি-কাশি শুরু হয়। কারণটা এখানেই।
হাঁপানি নাকি শুধু অ্যালার্জি? লক্ষণ মিলিয়ে দেখুন
| লক্ষণ | অ্যালার্জি (অ্যালার্জিক রাইনাইটিস) | হাঁপানি |
|---|---|---|
| বারবার হাঁচি, নাক দিয়ে পানি, নাক বন্ধ | প্রধান লক্ষণ | থাকতে পারে |
| চোখ চুলকানো বা পানি পড়া | সাধারণ | কম |
| বুকে সাঁই সাঁই শব্দ (হুইজিং) | সাধারণত না | সাধারণ |
| বুকে চাপ, শ্বাসকষ্ট | সাধারণত না | সাধারণ |
| রাতে বা ভোরে শুকনো কাশি বাড়া | হতে পারে | খুব সাধারণ |
| জ্বর, গা ব্যথা | সাধারণত না | সাধারণত না (থাকলে সংক্রমণ সন্দেহ করুন) |
ডা. সাইফ হোসেন খান বলেন, শীতকালীন অ্যালার্জির লক্ষণের মধ্যে রয়েছে "বারবার হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ থাকা", আর এতে সাধারণত জ্বর বা গা ব্যথা থাকে না। জ্বর থাকলে সেটা সংক্রমণের দিকে ইঙ্গিত করতে পারে।
মনে রাখবেন, অনেকের একসঙ্গে দুটোই থাকে। নাকের অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হাঁপানিও বাড়তে পারে। শ্বাসকষ্ট বা বুকে শব্দ হলে নিজে "শুধু অ্যালার্জি" ধরে নেবেন না, চিকিৎসককে দেখান।
শীত শুরুর আগেই ৫টি প্রস্তুতি
শীত পুরোপুরি পড়ার আগে, এখনই (অক্টোবর-নভেম্বরে) এই কাজগুলো সেরে রাখুন।
১. ইনহেলার আর ওষুধ দেখে নিন। অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমানের পরামর্শ —
"বাড়িতে ইনহেলার ও অন্যান্য ওষুধের মজুত আছে কি না, মেয়াদ আছে কি না, দেখে নিন।"
নেবুলাইজার থাকলে যন্ত্রটা চালিয়ে দেখুন ঠিকমতো কাজ করছে কি না।
২. চিকিৎসকের সঙ্গে একবার বসুন। তিনি শীতের শুরুতে একবার চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ ও ইনহেলারের মাত্রা ঠিক করে নিতে বলেছেন। আগের শীতে বারবার কষ্ট হয়ে থাকলে সেটা অবশ্যই জানান।
৩. টিকার কথা জিজ্ঞেস করুন। অধ্যাপক আজিজুর রহমান শীতের শুরুতে হাঁপানি রোগীদের ফ্লু ও নিউমোনিয়ার টিকা নেওয়ার কথা বলেছেন। NHS-ও হাঁপানি রোগীদের ফ্লু টিকার পরামর্শ দেয়। আপনার জন্য কোনটি প্রযোজ্য, চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন।
৪. লেপ-কম্বল আর গরম কাপড় পরিষ্কার করুন। বাক্স থেকে বের করা গরম কাপড় গরম পানিতে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিন বা ভালো করে আয়রন করুন, যাতে মাইট দূর হয় (অধ্যাপক আজিজুর রহমান)। ডা. সাইফ হোসেন খানও বিছানার চাদর, বালিশের কভার আর কম্বল নিয়মিত গরম পানিতে ধোয়ার কথা বলেছেন।
৫. ঘর পরিষ্কারের ধরন বদলান। ঝাড়ু দিলে ধুলা উড়ে বাতাসে মেশে। অধ্যাপক আজিজুর রহমান ঝাড়ুর বদলে ভেজা কাপড়ে মোছা আর ঘরে কার্পেট না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। হাঁপানি থাকলে নিজে ঝুল ঝাড়বেন না।
শীতের প্রতিদিনের অভ্যাস
- বাইরে মাস্ক পরুন। অধ্যাপক আজিজুর রহমান বলেন, "বাইরে গেলে মাস্ক পরুন, যা আপনাকে উড়ন্ত ধুলাবালু থেকে রেহাই দেবে।"
- নাক-মুখ ঢেকে রাখুন। মাফলার, কানঢাকা টুপি আর মোজা পরুন। উলে অ্যালার্জি থাকলে মোটা সুতি কাপড় বেছে নিন।
- হাঁটার সময় বদলান। তাঁর পরামর্শ, "যাঁরা ভোরে বা সন্ধ্যায় হাঁটতে বের হন, তাঁরা এ সময়টা পরিহার করুন।" রোদ ওঠার পর হাঁটুন, বা ঘরেই হালকা ব্যায়াম করুন।
- ধোঁয়া এড়িয়ে চলুন। ধূমপান করবেন না, ঘরে কাউকে করতে দেবেন না। শীতে খড়কুটো পোড়ানো বা কয়লার চুলার ধোঁয়া থেকেও দূরে থাকুন।
- ঘরের বাতাস খুব শুষ্ক বা স্যাঁতসেঁতে রাখবেন না। ডা. সাইফ হোসেন খান বলেন, হিটার বা গিজার ঘরের বাতাস আরও শুষ্ক করে, আর বাথরুম-রান্নাঘরের মতো স্যাঁতসেঁতে জায়গায় ছত্রাক জন্মাতে পারে।
- পোষা প্রাণী শোবার ঘর থেকে দূরে রাখুন (ডা. সাইফ হোসেন খান)।
- হাত ধোয়ার অভ্যাস রাখুন। সর্দি-কাশির রোগী থেকে একটু দূরত্ব বজায় রাখুন, কারণ ভাইরাস সংক্রমণে হাঁপানি বাড়তে পারে।
ডা. সাইফ হোসেন খানের একটা কথা মনে রাখার মতো: "তবে ওষুধের পাশাপাশি পরিবেশ নিয়ন্ত্রণই হলো সবচেয়ে কার্যকর উপায়।"
ইনহেলার: ভুল ধারণা ভাঙুন
শীতে কষ্ট বাড়লেও অনেকে ইনহেলার নিতে ভয় পান, বা "অভ্যাস হয়ে যাবে" ভেবে বন্ধ করে দেন। স্কয়ার হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম প্রথম আলোতে এমন কয়েকটি ভুল ধারণার জবাব দিয়েছেন:
- "ইনহেলারের নেশা হয়"? তাঁর জবাব: "এ ক্ষেত্রে নেশার কোনো বিষয় নেই।"
- "ট্যাবলেট খাওয়া ইনহেলারের চেয়ে ভালো"? না। তিনি বলেন, "ইনহেলার সরাসরি ফুসফুসে পৌঁছে যায়।"
- "বড় শ্বাসকষ্টে ইনহেলার কাজ করে না"? তাঁর ভাষায়, "একেবারেই ভুল তথ্য।"
- "ইনহেলারের স্টেরয়েড ক্ষতিকর"? তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, ইনহেলারে খুব অল্প পরিমাণ স্টেরয়েড সরাসরি ফুসফুসে যায়। চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবহার করলে উপকারের পাশাপাশি সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও বিবেচনা করা হয়। স্টেরয়েডযুক্ত ইনহেলারের পর কুলি করে পানি ফেলে দিন; সমস্যা হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।
নিজে থেকে প্রিভেন্টার (প্রতিরোধক) ইনহেলার বন্ধ করবেন না। ভালো লাগছে বলেই ওষুধ কমানো বা বাদ দেওয়ার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।
প্রেসারাইজড মিটারড-ডোজ ইনহেলার (pMDI) ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
ইনহেলার যত ভালোই হোক, ঠিকভাবে না নিলে ওষুধের বড় অংশ মুখ-গলাতেই থেকে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের (MedlinePlus) নির্দেশনা অনুযায়ী:
-
ক্যাপ খুলে দেখুন মুখের অংশ পরিষ্কার কি না। প্রতিবার নেওয়ার আগে ইনহেলার ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিন
-
মুখ থেকে যতটা পারেন আস্তে করে শ্বাস ছেড়ে দিন
-
ঠোঁট দিয়ে মুখের অংশ শক্ত করে চেপে ধরুন, যেন ফাঁক না থাকে
-
মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস নেওয়া শুরু করুন, আর সেই মুহূর্তে একবার চাপ দিন
-
ধীরে, যতটা গভীরে পারেন শ্বাস টানতে থাকুন
-
ইনহেলার সরিয়ে পারলে ১০ গোনা পর্যন্ত শ্বাস ধরে রাখুন, যাতে ওষুধ ফুসফুসের গভীরে পৌঁছায়
-
ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। ইনহেলারটি স্টেরয়েডযুক্ত হলে ব্যবহারের পর পানি দিয়ে কুলি করে ফেলে দিন, গিলবেন না
সবচেয়ে সাধারণ ভুল: চাপ দেওয়া আর শ্বাস নেওয়া একসঙ্গে না হওয়া। এতে ওষুধ গলায় লেগে থাকে।
স্পেসার ব্যবহার করুন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, স্পেসার থাকলে অ্যারোসল ইনহেলার ব্যবহার সহজ হয়, বিশেষ করে শিশু আর শ্বাসকষ্টের সময়। বয়স্কদের জন্যও এটি সহায়ক।
ড্রাই পাউডার ও ব্রেথ-অ্যাকচুয়েটেড ইনহেলার নেওয়ার নিয়ম আলাদা। নিজের ডিভাইসের নির্দেশনা মেনে চলুন। কোনটা কীভাবে নেবেন, ফার্মেসিতে বা চিকিৎসকের কাছে একবার দেখিয়ে নিন।
🚨 এই লক্ষণে দেরি না করে হাসপাতালে যান
ব্রিটিশ সংস্থা Asthma + Lung UK ও NHS-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, হাঁপানির আক্রমণ (অ্যাজমা অ্যাটাক) হতে পারে যদি:
- কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে শব্দ বা চাপ দ্রুত বাড়তে থাকে
- রিলিভার ইনহেলার স্বাভাবিকের মতো কাজ করছে না, বা খুব ঘন ঘন লাগছে
- হাঁটতে বা কথা বলতে কষ্ট হয়
এমন হলে সোজা হয়ে বসুন, শান্ত থাকার চেষ্টা করুন, আর চিকিৎসকের দেওয়া অ্যাকশন প্ল্যান অনুযায়ী রিলিভার নিন। রিলিভারেও আরাম না পেলে, যেকোনো সময় অবস্থা খারাপ হতে থাকলে, বা হাতে ইনহেলার না থাকলে অপেক্ষা না করে হাসপাতালে যান। (NHS)
ঠোঁট বা নখ নীলচে হয়ে যাওয়া, ঝিমিয়ে পড়া বা বিভ্রান্তি গুরুতর অক্সিজেন ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে। তখন এক মুহূর্তও দেরি করবেন না। বাসায় পালস অক্সিমিটার থাকলে এর সঠিক ব্যবহার জানতে পড়ুন পালস অক্সিমিটার ব্যবহারের নিয়ম। তবে অক্সিমিটারের রিডিংয়ের জন্য জরুরি চিকিৎসা নিতে দেরি করবেন না।
শীতে বেড়াতে যাচ্ছেন?
শীত মানেই সিলেট, শ্রীমঙ্গল, বান্দরবান বা কক্সবাজার। স্কয়ার হাসপাতালের মেডিসিন স্পেশালিস্ট ডা. আফলাতুন আকতার জাহান প্রথম আলোতে হাঁপানি রোগীদের জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছেন:
- "ঘুরতে যাওয়ার আগেই আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।"
- "আপনার ইনহেলারগুলো পরীক্ষা করে নিন, পরিমাণে কম থাকলে নতুন নিয়ে নিন।"
- "ওষুধের বাক্স লাগেজে নয়, আপনার হাতব্যাগে রাখুন।"
- "পাহাড়ে গেলে অনেক উঁচুতে না যাওয়াই ভালো, অক্সিজেনের অভাব যেন না হয়।"
- "যেখানে ঘুরতে যাচ্ছেন, সেখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র কোথায় আছে, আগে থেকে জেনে রাখুন।"
- পর্যাপ্ত শীতের পোশাক সঙ্গে রাখুন, হাঁপিয়ে গেলে বিরতি নিন, অতিরিক্ত চাপ নেবেন না।
শিশুর হাঁপানি ও শীতের কাশি
শিশুর ক্ষেত্রে শীতের কাশি হাঁপানি, সাধারণ ঠান্ডা না নিউমোনিয়া, তা আলাদা করা জরুরি। দ্রুত শ্বাস, শ্বাস নেওয়ার সময় বুক দেবে যাওয়া বা খেতে না পারা দেখলে দেরি করবেন না। বিস্তারিত: শীতে শিশুর কাশি: সাধারণ ঠান্ডা নাকি নিউমোনিয়া?
বাসায় যা রাখলে সুবিধা
- মাস্ক (বাইরে ধুলা ও ধোঁয়া থেকে)
- স্পেসার (ইনহেলারের সঙ্গে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য)
- নেবুলাইজার মেশিন (চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে; ওষুধ ও মাত্রা চিকিৎসক ঠিক করবেন)
- পালস অক্সিমিটার ও ডিজিটাল থার্মোমিটার
- সুতি মাফলার ও মোজা
মাস্ক, স্পেসার, নেবুলাইজার ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসামগ্রী দেখতে epharma.com.bd ভিজিট করুন। ইনহেলার, অ্যান্টিহিস্টামিন বা স্টেরয়েড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী নিন।
আরও পড়ুন
- হাঁপানি (Asthma): লক্ষণ, কারণ, ইনহেলার ও নিয়ন্ত্রণের উপায়
- এলার্জি: ধরন, লক্ষণ, কারণ ও চিকিৎসা
- পালস অক্সিমিটার ব্যবহারের নিয়ম
- শীতে ত্বক, ঠোঁট ও পায়ের যত্ন
- শীতে শিশুর কাশি: সাধারণ ঠান্ডা নাকি নিউমোনিয়া?
উপসংহার
শীতকে থামানো যায় না, কিন্তু শীতের জন্য তৈরি থাকা যায়। ইনহেলারের মজুত আর মেয়াদ দেখা, চিকিৎসকের সঙ্গে একবার কথা বলা, লেপ-কম্বল রোদে দেওয়া, বাইরে মাস্ক আর গলায় মাফলার: এই ছোট প্রস্তুতিগুলোই শীতের রাতগুলো অনেক সহজ করে দিতে পারে। আর শ্বাসকষ্ট যখন ইনহেলারেও না কমে, তখন অপেক্ষা নয়, হাসপাতাল।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: শীতে হাঁপানি বাড়ে কেন?
উত্তর: ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস, শীতের শুরুতে বাড়তি বায়ুদূষণ ও ধুলাবালু, সর্দি-কাশি বা ফ্লুর মতো ভাইরাস সংক্রমণ, আর লেপ-কম্বলে জমা ডাস্ট মাইট মিলে শ্বাসনালি উত্তেজিত হয়।
প্রশ্ন ২: শীতে অ্যাজমা রোগীর কী কী প্রস্তুতি নেওয়া উচিত?
উত্তর: ইনহেলার ও ওষুধের মজুত আর মেয়াদ দেখা, চিকিৎসকের সঙ্গে একবার পরামর্শ, ফ্লু ও নিউমোনিয়ার টিকা নিয়ে জিজ্ঞেস করা, লেপ-কম্বল ধুয়ে রোদে শুকানো, আর ঝাড়ুর বদলে ভেজা কাপড়ে ঘর মোছা।
প্রশ্ন ৩: শীতে সকালে হাঁটা কি হাঁপানি রোগীর জন্য ঠিক?
উত্তর: একজন বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ভোর ও সন্ধ্যার ঠান্ডায় হাঁটা এড়িয়ে রোদ ওঠার পর হাঁটা বা ঘরে ব্যায়াম করার পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রশ্ন ৪: হাঁচি-নাক বন্ধ কি অ্যালার্জি, নাকি ঠান্ডা লেগেছে?
উত্তর: অ্যালার্জিতে সাধারণত জ্বর বা গা ব্যথা থাকে না, আর উপসর্গ কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে। জ্বর থাকলে সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি। শ্বাসকষ্ট বা বুকে শব্দ থাকলে চিকিৎসক দেখান।
প্রশ্ন ৫: ইনহেলারে কি নেশা হয়?
উত্তর: না। স্কয়ার হাসপাতালের একজন রেসপিরেটরি মেডিসিন বিশেষজ্ঞের ভাষায়, "এ ক্ষেত্রে নেশার কোনো বিষয় নেই।"
প্রশ্ন ৬: ইনহেলার নেওয়ার সঠিক নিয়ম কী?
উত্তর: ঝাঁকিয়ে নিন, শ্বাস ছেড়ে দিন, ঠোঁট দিয়ে মুখের অংশ চেপে ধরে ধীরে শ্বাস নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চাপ দিন, গভীরে শ্বাস টানুন, তারপর পারলে ১০ গোনা পর্যন্ত শ্বাস ধরে রাখুন। স্টেরয়েডযুক্ত ইনহেলার হলে শেষে কুলি করুন।
প্রশ্ন ৭: স্পেসার কি দরকার?
উত্তর: স্পেসার থাকলে ইনহেলার ব্যবহার সহজ হয় এবং ওষুধ ভালোভাবে ফুসফুসে পৌঁছায়, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক আর শ্বাসকষ্টের সময়।
প্রশ্ন ৮: কখন হাসপাতালে যাব?
উত্তর: রিলিভার ইনহেলারেও আরাম না পেলে, হাঁটতে বা কথা বলতে কষ্ট হলে, অবস্থা দ্রুত খারাপ হলে, ঠোঁট নীলচে হলে বা হাতে ইনহেলার না থাকলে দেরি না করে হাসপাতালে যান।
প্রশ্ন ৯: শীতে কম্বল-লেপ থেকে অ্যালার্জি হলে কী করব?
উত্তর: ব্যবহারের আগে গরম পানিতে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিন বা আয়রন করুন। চাদর, বালিশের কভার নিয়মিত গরম পানিতে ধুয়ে নিন।
প্রশ্ন ১০: হাঁপানি রোগী কি শীতে পাহাড়ে বেড়াতে যেতে পারেন?
উত্তর: যাওয়ার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন, ইনহেলার ও ওষুধ হাতব্যাগে রাখুন, খুব উঁচুতে না যাওয়াই ভালো, আর কাছের স্বাস্থ্যকেন্দ্র কোথায় তা জেনে রাখুন।
তথ্যসূত্র
-
"শীতের শুরুতে হাঁপানি রোগীর প্রস্তুতি" — প্রথম আলো, ২৮ নভেম্বর ২০২২। অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ। prothomalo.com
-
"শীতকালে কী ধরনের অ্যালার্জি আমাদের ভোগায়, কীভাবে সচেতন থাকবেন" — প্রথম আলো, ১২ জানুয়ারি ২০২৬। ডা. সাইফ হোসেন খান, সহকারী অধ্যাপক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ধানমন্ডি। prothomalo.com
-
"ইনহেলার সম্পর্কে ছয়টি ভুল ধারণা" — প্রথম আলো, ২৫ আগস্ট ২০২৩। ডা. মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগ, স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড। prothomalo.com
-
"শীতে ঘুরতে যাচ্ছেন? অ্যাজমা থাকলে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করবেন" — প্রথম আলো, ২২ ডিসেম্বর ২০২৪। ডা. আফলাতুন আকতার জাহান, মেডিসিন স্পেশালিস্ট, স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড। prothomalo.com
-
WHO — "Asthma" Fact Sheet — ট্রিগার, বায়ুদূষণ, স্পেসার। who.int
-
NHS — "Asthma" ও "Asthma attack" — ঠান্ডা বাতাস ট্রিগার, ফ্লু টিকা, কখন জরুরি সেবা। nhs.uk
-
Asthma + Lung UK — "Asthma attacks" — আক্রমণের লক্ষণ। asthmaandlung.org.uk
-
MedlinePlus (U.S. National Library of Medicine) — "How to use an inhaler – no spacer"। medlineplus.gov

